বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফরিদপুর: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১২টায় বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের মৃত বাদশা শেখের ছেলে। এ মামলার অপর দুই আসামি মাহিন শেখ ও সরুজ শেখকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, সালথা উপজেলার কাগদী গ্রামের মোছা. রমেছা বেগমের মেয়ে রুবাইয়া বেগমের সঙ্গে বল্লভদী গ্রামের আহাদ শেখের কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হলেও পরে আরও তিন লাখ টাকা দাবি করেন আহাদ শেখ ও তার পরিবার। এক লাখ টাকা দেওয়ার পর বাকি দুই লাখ টাকার জন্য রুবাইয়া বেগমের ওপর নিয়মিত চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়।

২০১৭ সালের ১ আগস্ট যৌতুক নিয়ে স্বামী আহাদ শেখের সঙ্গে রুবাইয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে স্ত্রীকে মারধর করে এবং পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে দেয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মা রোমেছা বেগম সালথা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।”