স্কুল ফিডিংয়ে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না: ববি হাজ্জাজ

ফাইল ছবি
২৪ মে ২০২৬, ০৫:২০
নিউজ ডেস্ক
স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কার্যক্রমে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্যের মান ও সরবরাহে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, “শিশুদের পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”
রোববার (২৪ মে) রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বিষয়ক নির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অংশ নেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “এটি কোনো সাধারণ সভা নয়। শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। সরকারি কর্মকর্তা হোন কিংবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এত বড় জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিব্রতকর হবে।”
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। তবে ব্যবসার নামে শিশুদের খাদ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। যারা শর্ত মেনে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে, ভবিষ্যতে তারা এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারবে না।”
কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সভায় কয়েকটি নতুন নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—
খাদ্যের উৎস, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ
খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও মান নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান নিয়োগ
স্থানীয় উৎপাদন থেকে খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা
প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে খাদ্য পৌঁছানো এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা
ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—শিশুরা যেন সঠিকভাবে পুষ্টিকর খাবার পায়। এজন্য সরকার সব ধরনের বাস্তবসম্মত সহযোগিতা দেবে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি এটিকে একটি পাইলট কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো সমাধান করে ভবিষ্যতে সারা দেশে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
সভায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।









