লাইফস্টাইল ডেস্ক: মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনেকেই তখন খোলামেলা কথা বলতে বা বন্ধুদের আড্ডায় অংশ নিতে সংকোচ বোধ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো মুখের অপরিচ্ছন্নতা।
মানুষের মুখে স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য জীবাণু থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে এসব জীবাণু থেকে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে এবং সেখান থেকেই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকতে দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। প্রতিবার ব্রাশ করার জন্য অন্তত দুই মিনিট সময় দেওয়া প্রয়োজন। জীবাণুরোধী টুথপেস্ট ব্যবহার করা ভালো এবং সকালে ও রাতে খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত। তবে ব্রাশ করার সময় খুব বেশি চাপ দেওয়া ঠিক নয়।
খাবার খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলকুচি করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে জীবাণুরোধী মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকেই কর্মস্থলে বা ব্যাগে ছোট একটি মাউথওয়াশের বোতল রাখেন, যা মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়ক।
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার পরিষ্কার করতে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা প্রয়োজন। দিনে অন্তত একবার দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করা উচিত। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত একবার জিভ পরিষ্কার করাও জরুরি। বর্তমানে অনেক টুথব্রাশেই জিভ পরিষ্কারের আলাদা ব্যবস্থা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কোনো টুথব্রাশ তিন মাসের বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। যারা নকল দাঁত ব্যবহার করেন, তাদেরও নিয়মিত তা পরিষ্কার করতে হবে এবং রাতে খুলে রাখা ভালো। দাঁত বা মাড়িতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এমনকি কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত একবার দাঁত পরীক্ষা করানো উচিত।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই রোজা বা উপবাসের সময় মুখের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া দরকার। খাবারের ধরনও মুখের গন্ধের ওপর প্রভাব ফেলে। পেঁয়াজ, রসুন বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। তাই এসব খাবার কম খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, যাতে মুখ শুষ্ক না হয়।
কফি, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল মুখ শুষ্ক করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিনিহীন চুইংগাম ব্যবহার কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ধূমপানের কারণেও মুখ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে, তাই ধূমপান এড়িয়ে চলাই ভালো।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু রোগ বা ওষুধের কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। বিশেষ করে ফুসফুস বা শ্বাসনালির সংক্রমণ এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও যদি মুখের দুর্গন্ধ না কমে বা কফ-কাশির সমস্যা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।








