বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল–ঘেঁষা ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন জীবন দাস। এ জায়গাতেই কেটে গেছে তাঁর জীবনের চার দশক। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে এই ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই, পলিশ এবং ব্যাগ মেরামতের কাজ করে আসছেন।
জীবন দাসের জন্ম ১৯৬১ সালে। পরিবারসহ তিনি ঢাকার লালবাগে থাকেন। স্ত্রী, দুই ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিদের নিয়ে তাঁর সংসার।
যুবক বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। তখন দৈনিক আয় ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৩২ টাকা। সেই আয়েই দুই ছেলেকে বড় করেছেন ও পড়াশোনা করিয়েছেন। তিনি জানান, একসময় অল্প টাকাতেই সংসার চলত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব্যয় বেড়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাই তাঁর প্রধান গ্রাহক। ক্লাস চলাকালীন দিনে ৭০০–৮০০ টাকা আয় হয়, তবে তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারদরের সঙ্গে আয় না মিলতে পারার আক্ষেপও আছে তাঁর।
আগে নিজের তৈরি জুতা বিক্রি করতেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দোকানপাট উচ্ছেদের পর সেই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুধুই জুতা মেরামতের কাজ করেন।
করোনার সময় দীর্ঘদিন বেকার থাকতে হয়েছে তাঁকে। সে সময় সংসার চালাতে স্ত্রীর একটি ভরি স্বর্ণও বিক্রি করতে হয়েছিল। তিনি জানান, বন্ধ সময়গুলো ছিল খুবই কষ্টের।
জীবন দাস বলেন, অন্য কোনো কাজ শেখার সুযোগ হয়নি বলেই এই পেশা ছাড়তে পারেননি। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় বসে থাকতে থাকতে তিনি অনেক পরিবর্তন ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন।
সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। অবসরে এখন নাতনিদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটে তাঁর।