বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঐতিহ্য, জ্ঞানচর্চা ও ইসলামী সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র Al-Azhar University-এ এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে ভিন্নমাত্রিক আবহে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় এক বৈশ্বিক মুসলিম ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায়।

বিশ্বের শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীরা ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব ভুলে একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ভোর থেকেই কায়রোর পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে তাকবির ধ্বনিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, করিডোর ও মসজিদ এলাকায় সৃষ্টি হয় গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ।

মিশরের প্রচলিত শাফেয়ি মাযহাব অনুসারে ঈদের জামাতে প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত সাত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচ তাকবিরের মাধ্যমে নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে খুতবায় কুরবানির আত্মত্যাগ, মানবিকতা ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

নামাজের পর শুরু হয় শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি ও ছবি তোলার প্রাণবন্ত আয়োজন। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন বিশ্বের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও আনন্দ ভাগাভাগি করেন। প্রবাসে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও আল-আজহারের পরিবেশ তাদের ঈদের আনন্দকে বিশেষ করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। হোস্টেলপ্রধান অধ্যাপক ড. হিসাব আল-কাজী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং তাদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন।

মিশরীয় সংস্কৃতিতে ঈদের শুভেচ্ছা হিসেবে “কুল্লু সানা ওয়া আনতুম তাইয়িব” বা “কুল্লু সানা ওয়া আনতুম বিখাইর” বাক্যগুলো ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ—“আপনাদের প্রতিটি বছর শান্তি ও কল্যাণে ভরে উঠুক।”

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানান, পরিবারের কথা মনে পড়লেও আল-আজহারের বহুজাতিক ইসলামী পরিবেশ, তাকবিরের ধ্বনি এবং বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি হয়ে উঠেছে।