মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে যা বলল জার্মানি ও ন্যাটো

ফাইল ছবি
০৩ মে ২০২৬, ০৪:২৩
নিউজ ডেস্ক
জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘অনুমিত’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বড় পরিসরে সেনা কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় ন্যাটো জোটে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে জোটটি।
শনিবার রাতে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা বড় পরিসরে সেনা কমানোর পরিকল্পনা করছে এবং এই পাঁচ হাজারের চেয়েও বেশি সেনা কমানো হতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এর পরপরই ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ সামনে আসে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, সামরিক প্রয়োজন ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জার্মানিতে ৩৬ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। ইতালিতে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ট্রাম্প ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত বছর রোমানিয়াতেও সেনা উপস্থিতি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ।
এই পদক্ষেপে ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোট দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরের শত্রু নয়, বরং অভ্যন্তরীণ ভাঙন। তিনি এ প্রবণতা মোকাবিলায় সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির দুই জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, ইউরোপে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
পিস্টোরিয়াস আরও বলেন, ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে এবং জার্মানি এ ক্ষেত্রে মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি তার প্রতিরক্ষা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
ন্যাটোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি ইউরোপের দেশগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগ এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ট্রাম্প ও মেরৎসের সাম্প্রতিক বাকবিতণ্ডার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে, যা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।









