বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে—এমন হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩০ মে তিনি আবারও এ হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেনা প্রত্যাহার হলে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে।

জার্মানিতে মার্কিন সেনা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তথ্য অনুযায়ী ও জার্মানির ডিপিএ পত্রিকার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এশিয়ায় জাপানের পর জার্মানিই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতির দেশ।

এই উপস্থিতি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধের সময় থেকে। তখন পূর্ব জার্মানি ছিল সোভিয়েত ব্লকে এবং পশ্চিম জার্মানি ন্যাটোর অংশ ছিল। সম্ভাব্য রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় এই ঘাঁটিগুলো স্থাপন করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলেও এখনো ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এসব ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব বজায় আছে।

সামরিক ঘাঁটির অবস্থান
জার্মানির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে রামস্টাইন বিমানঘাঁটি সবচেয়ে বড় বিদেশি মার্কিন ঘাঁটি। ল্যান্ডস্টুলে রয়েছে বড় সামরিক হাসপাতাল। বাভারিয়ার গ্রাফেনভেয়ার এলাকায় রয়েছে বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

স্টুটগার্টে ইউরোপ ও আফ্রিকার মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তর (EUCOM ও AFRICOM) এবং ভাইসবাডেনে ইউরোপে মার্কিন স্থলবাহিনীর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এছাড়া স্প্যাংডাহলেম ঘাঁটিতে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে। ধারণা করা হয়, বুখেল ঘাঁটিতে প্রায় ১০০টি মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত আছে।

রামস্টাইন ঘাঁটির গুরুত্ব
ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনার অর্ধেকের বেশি জার্মানিতে অবস্থান করে, যার একটি বড় অংশ রামস্টাইনে। এটি শুধু ঘাঁটি নয়, বরং ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্র।

এখান থেকে সেনা পরিবহন, বিমান অভিযান, চিকিৎসা সহায়তা ও কমান্ড কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জার্মানির অর্থনীতিতে প্রভাব
মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে জার্মানিতে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়। স্থানীয় কর্মসংস্থান, বাসা ভাড়া ও সেবাখাতে এর প্রভাব রয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প একাধিকবার জার্মানি থেকে সেনা কমানো বা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার দাবি, জার্মানি যথেষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যয় করছে না।

জার্মান কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আংশিক সেনা প্রত্যাহার সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে বড় ঘাঁটি পুরোপুরি বন্ধ করা সহজ হবে না। এতে ন্যাটো জোটের ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রামস্টাইন, ল্যান্ডস্টুল ও গ্রাফেনভেয়ারের মতো ঘাঁটি দুই দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে, জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ইস্যুটি শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনীতি, কূটনীতি এবং ন্যাটোর ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।