বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অপসাংবাদিকতা ও অপেশাদার সাংবাদিকতা থেকে বিরত থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। তবে কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করে সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করছে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেস উইং আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমবান্ধব এবং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সাংবাদিকরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। এই ইতিবাচক ধারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এবং বিশেষ করে তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফটোকার্ড ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ পরিবেশন করা হয়। রিলস বা সংক্ষিপ্ত ভিডিওর নামে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সমাজে অস্থিরতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। খণ্ডিত বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশ পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমও দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন, যা দেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। তবে এই আনন্দের মধ্যেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি সবার মনে নাড়া দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির সময় যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, তখনও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন। ঈদের পরদিন তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কোথাও অব্যবস্থাপনা বা গাফিলতি পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা, কখনও কখনও ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তিনি এবং তার সহকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।