বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী এক রিভিউ লিখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (১ জুন) রাত ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই রিভিউতে তিনি চলচ্চিত্রটির গল্প, চরিত্র ও মানবজীবনের নানা দর্শনকে একসূত্রে গেঁথে বিশ্লেষণ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং মানুষের জীবন, সংগ্রাম, বেদনা ও আশার প্রতিচ্ছবি।

রিভিউতে চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, অসুস্থ মায়ের জন্য হেলিকপ্টার চাওয়ার ঘটনায় এক মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করলে গণিতের অধ্যাপক রশিদ উদ্দিন জবাবে বলেন, “মামুলি বিষয়কে বড় করে তোলাই তো মানুষের কাজ।” এই সংলাপকে কেন্দ্র করেই তিনি চলচ্চিত্রটির মূল দর্শন ব্যাখ্যা করেন।

তার মতে, ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বহু মানুষের জীবন ও দুঃখকে একত্রে তুলে ধরেছে। সিনেমাটি দেখার পর ট্রেনটিকে আর সাধারণ যানবাহন মনে হয় না; বরং এটি হয়ে ওঠে মানুষের বেদনা বহনকারী এক জীবন্ত প্রতীক।

চলচ্চিত্রের ডাক্তার আশাব চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, শৈশবের ট্রমা ও অপূর্ণতার ভার বহন করা এই চরিত্র যেন দেশের অসংখ্য তরুণের প্রতিচ্ছবি। বাহ্যিক হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা হতাশা ও সংগ্রামের বাস্তবতাও তিনি তুলে ধরেন।

রিভিউতে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনসংগ্রাম, মৃত্যু, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও নতুন শুরুর গল্প বিশ্লেষণ করে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন— মানুষের জীবনের হিসাব-নিকাশ কি সত্যিই মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, নাকি সবকিছুর উত্তর অন্য কোথাও নির্ধারিত থাকে?

জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়কে জীবন হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, মানুষের অস্তিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো এই চলমান পথচলা, যেখানে আনন্দ ও বেদনা পাশাপাশি অবস্থান করে।

হাসনাতের ভাষায়, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আসলে একটি পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি— যেখানে একদিকে রয়েছে সন্তানের কফিন, অন্যদিকে নবজাতকের আগমন; একদিকে ক্ষমতার অহংকার, অন্যদিকে মানবিকতা ও ভালোবাসা।

রিভিউয়ের শেষাংশে তিনি বলেন, জীবনের মূল সত্য হলো রূপান্তর। মানুষ বারবার ভেঙে পড়ে, আবার উঠে দাঁড়ায়। সংগ্রাম, অশ্রু, ব্যর্থতা ও সম্ভাবনাকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলে জীবন। আর সেই চলমান জীবনযাত্রার প্রতীক হিসেবেই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’কে দেখেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন তানিম নুর। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে অ্যাডভেঞ্চার, রোমান্স ও কমেডির উপাদান একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।