ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম ৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ১১.৩ বিলিয়ন ডলার

ফাইল ছবি
১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১২
নিউজ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রথম ছয় দিনে অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
মার্কিন সিনেটরদের জন্য আয়োজিত এক বন্ধদ্বার কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। তবে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এটি পুরো যুদ্ধ ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব নয়।
কংগ্রেসের কয়েকজন সহকারী জানিয়েছেন, শিগগিরই হোয়াইট হাউস যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়ে কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব জমা দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
যুদ্ধের মোট ব্যয় বা সংঘাত কতদিন চলতে পারে, এ বিষয়ে প্রশাসন এখনও কোনো প্রকাশ্য মূল্যায়ন দেয়নি।
মঙ্গলবার কেন্টাকিতে এক সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধ জিতেছি, তবে কাজ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র লড়াই চালিয়ে যাবে।”
সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোয় ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করে ইউনিসেফ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে ১১০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। সংস্থা বলেছে, পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের লাখো শিশুর জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ইসরায়েলের টানা বোমাবর্ষণে লেবাননে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। কংগ্রেসের অনেক সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে দিতে পারে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রকাশ্য শুনানিতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা জানতে চান, ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে এবং যুদ্ধ শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা কী।
তবে বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বোমা হামলার জন্য প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। যদিও তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।









