বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্বামীকে ইতালিতে রেখে দেশে ফিরে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে চার সন্তানের জননী মুন্নি আক্তার জেসমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীকে তালাক না দিয়েই তিনি পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। একই সঙ্গে স্বামীর প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় ইতালি প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির হোসেন ও মুন্নি আক্তার জেসমিনের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। ২০০৯ সালে জাকির স্ত্রী মুন্নিকে ইতালিতে নিয়ে যান। সেখানে থাকাকালে মোবাইল ফোনে একাধিক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে মুন্নির পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন জাকিরের পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি হয়।

প্রায় দুই মাস আগে বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে মুন্নি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন দুই সন্তানকে। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টুকে মুন্নি বিয়ে করেন। জাকিরের পরিবারের দাবি, সৌরভের সঙ্গে মুন্নির আগে থেকেই পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্বামী জাকিরকে তালাক না দিয়েই সৌরভকে বিয়ে করেছেন মুন্নি। এছাড়া ইতালি থেকে দেশে ফেরার সময় জাকিরের দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ অর্থ এবং ব্যাংকের এটিএম কার্ড নিয়ে আসেন তিনি। এসবের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাকিরের বোন।

জাকিরের বোন মারুফা বেগম বলেন, “মুন্নি আমার ভাইকে তালাক দেয়নি। তিনি পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। তিনি আমার ভাইয়ের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় মুন্নির পরিবারের লোকজনও জড়িত।” তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তার দুই ভাতিজা ও ভাতিজি অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং তার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্নি আক্তার জেসমিন। তিনি বলেন, ইতালিতে থাকাকালে জাকির তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ কারণে তিনি অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। তবে জাকিরকে তালাক না দিয়েই বিয়ে করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি বলেও দাবি করেন।

রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।