বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করেছেন কনস্টেবল অমিত হাসান। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে পৌর এলাকার শিমরাইল সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে এক ব্যাচমেটের সঙ্গে ঘুরতে থাকা পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে গিয়ে তিনি ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন।

নদীর পাড়ে একটি নৌকার সহায়তায় তরুণীকে তোলার পর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) নাছির উদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চিকিৎসার খোঁজ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী জানান, তরুণী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তরুণীর মায়ের ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিমান থেকেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাছির উদ্দিন বলেন, “মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমাদের এক পুলিশ সদস্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।” পরে রাত ১২টার দিকে তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে দ্রুত পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তরুণীর জীবন রক্ষায় কনস্টেবল অমিত হাসানের সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। তার পরিবারের সদস্যরাও এ ঘটনায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।