শিরোনাম:
টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পাহাড় ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ফাইল ছবি
০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২২
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ সারাদেশ খবর
টানা দুই দিনের অবিরাম ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি জেলাটিতে বন্যা, যোগাযোগ বিপর্যয় ও পর্যটক আটকা পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে রেকর্ড ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করেছে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।
প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নিমজ্জিত: টানা বৃষ্টির ফলে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার প্রধান প্রধান নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল, নদীর তীরবর্তী শত শত বসতঘর এবং একরের পর একর ফসলি জমি।
থানচি সড়ক বিচ্ছিন্ন: প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ে ধস নামায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে মাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছে।
লামা-আলীকদম সড়কে ভোগান্তি: আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। লামা-আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া ও শীবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় করে পারাপার হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পর্যটন কেন্দ্রে শতাধিক পর্যটক আটকা
টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুমসহ দুর্গম পাহাড়ি পর্যটন এলাকাগুলোতে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরনের নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সদরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে নদীপথে যাতায়াত না করার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আশ্রয়কেন্দ্র
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। আলীকদমে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং জেলায় সব মিলিয়ে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।
ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রস্তুতি:
দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী আরও কয়েক দিন জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে ও নদীর তীরে বসবাসকারী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









