শিরোনাম:
মাইকিং করে তিন গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র কসবা

ফাইল ছবি
০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪
নিউজ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সড়ক থেকে গাছ সরানোকে কেন্দ্র করে মাইকিং করে তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই ত্রিমুখী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি এবং বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পার্শ্ববর্তী আরেকটি গ্রাম এই সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
তুচ্ছ ঘটনা থেকে বিরোধ, সালিশেও মেলেনি সমাধান
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েক দিন আগে। গ্রামের একটি অভ্যন্তরীণ সড়কে ভেঙে পড়ে থাকা একটি গাছ সরানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এই তুচ্ছ ঘটনাটি একপর্যায়ে দুই চালকের নিজ নিজ গ্রাম অর্থাৎ শ্যামবাড়ি ও হাতুড়াবাড়ির মধ্যে গোত্রীয় বিরোধে রূপ নেয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় মুরুব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।
মাইকের ঘোষণায় ত্রিমুখী রূপ নিল সংঘাত
পূর্ববিরোধের জেরে সোমবার বিকেলে দুই গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।
মাইকিং করে সংঘাত: একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ও হাকডাক দিয়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
যুক্ত হলো ৩য় গ্রাম: সংঘর্ষ চলাকালে শ্যামবাড়ি গ্রামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাশের ‘নিমবাড়ি’ গ্রামের বাসিন্দারাও লাঠিসোঁটা নিয়ে হাতুড়াবাড়ির ওপর চড়াও হয়। এতে তিন গ্রামের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সড়ক অবরোধ: সংঘর্ষের জেরে এ সময় অত্যন্ত ব্যস্ততম তিনলাখপীর-চারগাছ সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, এলাকায় থমথমে অবস্থা
স্থানীয়দের দাবি, ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সুনির্দিষ্ট নাম বা সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে দাঙ্গাবাজদের হটিয়ে দেয় এবং বিকেল শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
“তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু লোক সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক সচল করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে দাঙ্গাবাজরা নিজ নিজ গ্রামে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
— আলী মোহাম্মদ রাশেদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কসবা থানা।
আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।









