বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

চসিক মেয়র বললেন, আদালতের রায়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ; নির্বাচন হলে পদ ছাড়তে প্রস্তুত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর এ বক্তব্যের জবাবে মেয়র শাহাদাত দাবি করেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে তাঁর মেয়াদ রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি পদ ছাড়তে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান চসিক মেয়রকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেন।

‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ মন্তব্য জামায়াত আমিরের

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে একজন মেয়র আছেন। তাঁর মেয়াদ এখনো আছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাঁকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ বলা হবে না কেন? ইচ্ছামতো যতদিন খুশি পদে থাকার বিষয়টি সুশাসন নয়, বরং ফ্যাসিবাদ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির মেয়র শাহাদাতকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি আবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলে তাঁদের কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করলে সেই ফলও মেনে নিতে হবে।

একই বক্তব্যে তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতির পর বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। এসব প্রশাসক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

‘আদালতের রায়েই বৈধ মেয়র’—শাহাদাত

জামায়াত আমিরের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর জবাব দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁর মেয়র পদে থাকার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত।

মেয়র শাহাদাত বলেন, তাঁর মেয়র পদে থাকা আদালতের রায়ের ভিত্তিতে হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। এরপর তিনি শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর নির্বাচনী অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সাবেক চসিক মেয়র রেজাউল করিমের নির্বাচনের ফলের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন এবং আদালতের রায়ে তাঁকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে।

‘নির্বাচন হলে পদ ছাড়তে প্রস্তুত’

নিজের মেয়াদের বিষয়ে শাহাদাত বলেন, তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্বাভাবিক হিসাবেই তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত হওয়ার কথা।

তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলেও জানান।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত রায়ের জন্য তিনি দীর্ঘদিন আইনি লড়াই করেছেন। এ মামলার কারণে তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লংমার্চ নিয়ে শাহাদাতের কটাক্ষ

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিকে ‘লংমার্চ’ না বলে ‘লং ড্রাইভ’ বলে কটাক্ষ করেন মেয়র শাহাদাত।

তিনি বলেন, কর্মসূচিতে ‘বিদ্যুৎ দে, পানি দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’—এমন স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও জ্বালানি ব্যয় করে তাঁরা লং ড্রাইভ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি পালন করতে পারেন।

চসিক মেয়র তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন, গত ১৬ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১১০টির বেশি মামলা হয়েছে এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

এদিকে, মেয়র শাহাদাতের মেয়াদ নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য এবং এর জবাবে মেয়রের দেওয়া ব্যাখ্যার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তাঁর বর্তমান মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।