বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন নীতিমালায় যোগ্যতা-অযোগ্যতার পাশাপাশি ভাতা বাতিলের কারণও নির্ধারণ করেছে সরকার

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। তবে নির্ধারিত কিছু শর্ত ভঙ্গ করলে এই সুবিধা বাতিল হতে পারে। নতুন নীতিমালায় এমন ৯টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সম্মানি পাওয়ার যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং কোন কোন পরিস্থিতিতে সম্মানি বাতিল হবে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারা পাবেন সম্মানি?

নীতিমালা অনুযায়ী, সম্মানি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত থাকতে হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির নিয়োগপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকার বলছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেবকদের মাসিক সম্মানি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতাও দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সুবিধা বাতিল হবে।

যে ৯ কারণে সম্মানি বাতিল হতে পারে

১. নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে
কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে তাঁর সম্মানি বাতিল হবে।

২. চাকরিচ্যুত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে
সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হলে বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৩. তথ্য জালিয়াতি প্রমাণিত হলে
সম্মানি পাওয়ার ক্ষেত্রে দেওয়া তথ্যে কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে এই সুবিধা বাতিল হবে।

৪. রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে
কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলে তাঁর সম্মানি বাতিল হবে।

৫. সম্মানিভোগীর মৃত্যু হলে
কোনো সম্মানিভোগী ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৬. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে
মসজিদ বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও কেউ সম্মানিভোগী হিসেবে নির্বাচিত হলে তাঁর সম্মানি বাতিল হবে।

৭. অন্য কোনো উৎস থেকে বেতন-ভাতা পেলে
কোনো ব্যক্তি অন্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পেলে তিনি এই কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

৮. সমাজবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে
কোনো ব্যক্তি সমাজবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত—এমনটি প্রমাণিত হলে তাঁর সম্মানি বাতিল হবে।

৯. রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে
কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে বা থাকলে তিনি এই কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

ধর্মীয় সেবকদের জন্য নতুন কাঠামো

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত সেবকদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আচরণগত শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় নির্ধারিত ৯টি পরিস্থিতির কোনোটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানি বাতিল হবে।