শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

যানবাহনের নিয়ম মেনে চলা ও সুশৃঙ্খলভাবে পথচারী পারাপার নিশ্চিত করতে ঢাকার সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি ইন্টারসেকশনে এই প্রযুক্তি চালুর পর এবার আরও ৫০টি পয়েন্টে এআই ক্যামেরা ও সিগন্যাল ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন ৫০টি পয়েন্টের মধ্যে ২৮টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ২২টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থাপন করা হবে। বুয়েটের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই প্রযুক্তি চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন এই ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে। ফলে সিগন্যাল পরিচালনার জন্য আলাদা কোনো অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। সড়কে যানবাহনের চাপ বিবেচনা করে সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা হাতে থাকা ট্যাব ব্যবহার করেও সিগন্যাল পরিবর্তন করতে পারবেন।

চালকদের অনেকে বলছেন, এআই সিগন্যাল চালু হওয়ার পর ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে তাদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। মামলা হওয়ার আশঙ্কা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে সিগন্যাল মানার প্রবণতাও বেড়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, মানুষের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ ব্যবস্থার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছেন ট্রাফিক কর্মকর্তারা। ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পথচারী পারাপার এবং ফিটনেসবিহীন ও ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে অনেক সময় এআই সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করতে সমস্যায় পড়ে।

এদিকে, প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সিগন্যালিং ব্যবস্থা পরিচালনা ও তদারকির জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।