শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় স্বামীর মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মাসুদা বেগম (৩৬) নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাসুদা।

নিহত মাসুদা বেগম কালাই উপজেলার হারুঞ্জা সাহাপাড়া গ্রামের মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাসুদাকে লোহার রড ও প্লাস দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তার স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মেহেদী পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুদাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যান মাসুদা।

এ ঘটনায় নিহতের সহোদর ভাই মো. বশির উদ্দিন বাদী হয়ে কালাই থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শাপলাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

কালাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, মারধরের মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মামলাটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।