শিরোনাম:
বান্দরবানে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন অপহৃত ৬ শ্রমিক

ফাইল ছবি
০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ সারাদেশ খবর
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং বড়ইঝিরি এলাকার একটি রাবার বাগান থেকে অপহৃত ছয় রোহিঙ্গা শ্রমিককে তিনদিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সশস্ত্র অপহরণকারীরা দুর্গম পাহাড়ে আটকে রেখে তাদের ওপর পাশবিক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং পরবর্তীতে পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করার পর তাদের ছেড়ে দেয়।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের ঈদগড় এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অস্ত্রের মুখে রাবার বাগান থেকে অপহরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আলিক্ষ্যং বড়ইঝিরি এলাকায় মোহাম্মদ কায়সারের মালিকানাধীন একটি রাবার বাগানে হানা দেয় একদল অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। তারা সেখানে কর্মরত ছয় রোহিঙ্গা শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গভীর জঙ্গলের দিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরদিন শনিবার সকালে বাগানের ম্যানেজার রহমত করিম কর্মস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের একটি রাবার বাগানের মালিকের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হন যে শ্রমিকরা অপহৃত হয়েছেন। এরপরই বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়।
নির্যাতন ও ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়
অপহরণের তিনদিন পর আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগড় উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বদরুজ্জামান বদরুর বাড়িতে অপহৃত ছয় শ্রমিক এসে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানান, পাহাড়ি আস্তানায় অপহরণকারীরা তাদের হাত-পা বেঁধে লাঠিসোঁটা দিয়ে প্রচণ্ড মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে অস্ত্রের মুখে স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের সদস্যরা ধার-দেনা করে সেই মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার পর দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ বেঁধে ঈদগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় ছেড়ে দেয়। উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শ্রমিকের শরীরে নির্যাতনের দৃশ্যমান ও রক্তাক্ত চিহ্ন রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের পরিচয়
উদ্ধার হওয়া ছয় শ্রমিকই মূলত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ক্যাম্প-৪ (ইস্ট সিং), ব্লক-বি/১-এর নিবন্ধিত বাসিন্দা। তারা হলেন:
১. মো. জমির উদ্দিন (২৬)
২. মো. ইসহাক (২২)
৩. মো. জাকারিয়া (১৯)
৪. মো. মুবিন (২৪)
৫. মো. ইয়াছিন (২৭)
৬. মোহাম্মদ নুর
আইনি পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
ঘটনার পর নাইক্ষ্যংছড়ির কাগজীখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের নিজেদের হেফাজতে নেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ঈদগড়ে অবস্থান করছেন।
“অপহৃত ছয়জনকে অক্ষত ও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মুক্তিপণ আদায় এবং ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। এই চক্রটির সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
— মো. মনজুর আহসান, ইনচার্জ (আইসি), বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই এই ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ডাকাত দল সাধারণ শ্রমিকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ বাণিজ্যে মেতে উঠছে। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপহরণ চক্রের মূলোৎপাটন করতে পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর নিয়মিত চিরুনি অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।









