শিরোনাম:
বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, মানুষের মনে প্রশ্ন: রিজভী

ফাইল ছবি
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
একটার পর এক কারিগরি ত্রুটিতে ‘রহস্য’ ও ‘চক্রান্তের’ আশঙ্কা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের
দেশের বিদ্যুৎ খাতে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ সংকটে ‘রহস্য’ দেখছেন রিজভী
রিজভী বলেন, ভারতীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় এবং সেখানকার একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এর পেছনে কোনো রহস্য আছে কিনা কিংবা কোনো ধরনের নাশকতা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, কেন একের পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে এবং কোথাও না কোথাও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এ নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছে এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির পাওনাও পরিশোধ করছে। এরপরও বিদ্যুৎ সরবরাহে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, বিদ্যুৎ খাতের সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। কোথাও কোনো ‘কনস্পিরেসি’ বা চক্রান্ত হচ্ছে কিনা—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি জানান।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও শঙ্কা
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
এসব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ধরনের চক্রান্ত চলছে কিনা, তা নিয়েও ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তারা হঠাৎ করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার বা উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এত বড় জমায়েত কীভাবে হলো এবং এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকে অবগত ছিল কিনা—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
‘ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে ছাত্রছাত্রী, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
তিনি বলেন, সেই ‘ফ্যাসিবাদী ও দুঃশাসনের চেহারা’ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার দেশে ফিরতে চাইলে তার পরিণতি কী হবে, সেটি ভাবতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর গুলির ঘটনাগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, দেশবাসী সেসব ঘটনা ভুলে গেছে কিনা।
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, কোনোভাবেই যেন দেশে আবার ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব এহসানুল হুদাসহ জোটের নেতারা।









