মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, লালিত স্বপ্ন আর বড় অঙ্কের বিনিয়োগ যেন এক রাতেই নিমিষে শেষ হয়ে গেল। চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দারখীল এলাকায় একটি পুকুরে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মাছের পোনা মারা যাওয়ার এক নির্মম অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার ‘সানাউল্লাহ বাপের বাড়ির বড় পুকুরে’ এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

এক রাতেই শেষ দীর্ঘদিনের পুঁজি
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি শওকত আকবর মুন্না পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা। তিনি মূলত বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষ এবং মাছের পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারার একটি বড় দিঘিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরবরাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির দামী মাছের পোনা সংগ্রহ করে সাময়িকভাবে এই পুকুরটিতে সংরক্ষণ করেছিলেন মুন্না। সেখানে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার রেণু ও মাছের পোনা মজুত ছিল।

ভুক্তভোগী জানান, রোববার রাতে কয়েকটি মাছ পানির ওপর অদ্ভুতভাবে ভেসে উঠতে দেখে তিনি প্রথমে এটিকে সাধারণ অক্সিজেনের ঘাটতি মনে করে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার (৬ জুলাই) সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান; দেখেন, পুরো পুকুরজুড়ে হাজার হাজার মাছের পোনা মৃত অবস্থায় শ্বেতশুভ্র চাদরের মতো ভেসে আছে।

“আমার দীর্ঘদিনের কষ্টের অর্জন ও পুঁজি এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। শত্রুতামূলকভাবে কেউ এই কাজ করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আমার এই অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
— শওকত আকবর মুন্না, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি।

তদন্তে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ
খবর পেয়ে সোমবার সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পটিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছি। পুকুরের পানির নমুনা ও মৃত মাছ ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি ল্যাব টেস্টে বিষ প্রয়োগের চূড়ান্ত সত্যতা মেলে, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করব।”

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। এই ধরনের জঘন্য ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মাঠে তদন্ত শুরু করবে। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”