সুন্দরবনের ডাকাতদের আত্মসমর্পণের আহ্বান

ফাইল ছবি
২১ মে ২০২৬, ১১:১৩
নিউজ ডেস্ক
সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চলমান বিশেষ অভিযান
কোস্ট গার্ড জানায়, বর্তমানে সুন্দরবনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযানে ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
আত্মসমর্পণ করল ‘ছোট সুমন বাহিনী’
কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে গত রোববার রাতে বাগেরহাটে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদারসহ মোট সাতজন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা হলেন—সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪)।
তাদের মধ্যে ছয়জন বাগেরহাটের মোংলা থানার এবং একজন রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।









