বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঘিরে সামনে এসেছে তার অতীত জীবনের নানা অপরাধ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের তথ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া, পারিবারিক কলহ এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল সে।

রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তার গ্রামের বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুরে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাদক ও জুয়ায় আসক্তি

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় রিকশা মেরামতের কাজ করত সোহেল রানা। প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করে সে। ওই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে।

পরে প্রায় তিন বছর আগে পাশের গ্রামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সোহেল। এ সময় থেকেই সে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। জুয়ায় ঋণে জর্জরিত হয়ে একপর্যায়ে পরিবারের চাপে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

ঢাকায় এসে সাবলেট জীবন

ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট নেয় সোহেল ও তার স্ত্রী। ওই ভবনের কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত দুজনের সুপারিশে তাকে গ্যারেজে কাজ দিয়েছিলেন।

মনির বলেন, “পরিচিত আরও দুজন বলল, একজন মিস্ত্রি আছে, নিবেন কি না। আমি বললাম, আপনারা যদি ভালো মনে করেন তাহলে দেন। পরে দেখি একদিন আসে, দুইদিন আসে না। আচরণও ভালো না। পরে গ্যারেজ থেকে বাদ দিয়ে দিই।”

জানা গেছে, একই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ নামের দুজনের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা ও কাজের ব্যবস্থা হয়েছিল সোহেলের। তাদের দাবি, ছয় মাস আগে গ্রামের কামাল নামে এক ব্যক্তি সোহেলকে সুপারিশ করেছিলেন।

বিহারি ক্যাম্প থেকেও বের করে দেওয়া হয়

পল্লবীতে আসার আগে বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন সোহেল ও তার স্ত্রী। তবে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের কারণে তাদের সেখান থেকেও বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই বাড়ির মালিক বলেন, “আমার বাসায় সে দুই মাস ছিল। সোহেল ইয়াবাসেবন করত। আমার স্ত্রী এগুলো পছন্দ করে না। এজন্য তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।”

পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ

সোহেলের ছোট বোন জলি বেগম জানান, প্রায় তিন বছর আগে পরিবার থেকেই তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

তিনি বলেন, “মা-বাবার খরচ দেয় না, কোনো যোগাযোগও রাখে না। এলাকায় মাদক, জুয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল সে।”

রামিসা হত্যাকাণ্ড

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনায় তার স্ত্রীও সহযোগিতা করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।