রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি মার্কিন ডলার (১০ মিলিয়ন) ঘোষণা করেছে ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (IRI)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে এই বিপুল অর্থ প্রদান করা হবে।

অপরাধী আখ্যা দিয়ে আইআরআই-এর বিবৃতি
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ ও ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স তাদের বিবৃতিতে জানায়, সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থ থেকেই এই এক কোটি ডলারের তহবিল বা পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী যদি ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে, তবে তারা এই পুরস্কারের অর্থ পাবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়:

“বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ শিশু ও বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালিয়েই যাবে। স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। সম্মানিত মানুষের ক্ষোভ থেকে ওই অপরাধী (ট্রাম্প) কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।”

সংগঠনটি তাদের যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’ উল্লেখ করে হুশিয়ারি দিয়ে বলে, “শহীদদের রক্ত অভিশাপ হয়ে অহংকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে; যতক্ষণ না আগ্রাসনকারীরা পুরোপুরি পরাজিত হয় এবং স্বৈরাচারের দুর্গগুলো ধসে পড়ে।”

সোলাইমানি হত্যার স্বীকারোক্তি ও প্রতিশোধের আগুন
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এই ঘোষণার নেপথ্যের কারণ তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উক্ত বৈঠকে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন যে, ২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিসকে হত্যার পেছনে তাঁর সরাসরি ভূমিকা ও নির্দেশ ছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য ও দাম্ভিক স্বীকারোক্তিকে চরম উসকানি হিসেবে দেখছে ইরাক ও ইরানের প্রতিরোধ যোদ্ধারা। মূলত এই স্বীকারোক্তি সামনে আসার পর পরই ইরাকের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিল, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।