রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত এবং কঠোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ইটভাটাজনিত দূষণ রোধ, রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন দ্রুত অপসারণ এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ইটভাটা ও বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশবান্ধব বিকল্প
সভায় দেশের ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রথাগত ইটভাটার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘এআই’ প্রযুক্তির ব্যবহার ও ট্রাফিক লাইট
রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

হর্ন নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি: বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ক্যামেরার আদলে, অনিয়ন্ত্রিত হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহন শনাক্ত করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা ও এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ফিটনেসবিহীন যান অপসারণ: রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক এবং অন্যান্য গণপরিবহন দ্রুত অপসারণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট: নগরীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম’ চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিতিবৃন্দ
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নীতি নির্ধারণী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।