রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আগামী রোববারের মহাকাব্যিক ফাইনাল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য কেবল আরেকটি শিরোপা লড়াই নয়, বরং এক মহিমান্বিত ও ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার অনন্য উপলক্ষ। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে আলবিসেলেস্তেরা শুধু নিজেদের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুটই ধরে রাখবে না, সেই সঙ্গে ভেঙে দেবে ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ ৬৪ বছরের এক অবিনশ্বর অপেক্ষার রেকর্ড। সে ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কৃতিত্ব গড়বে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে আর্জেন্টিনার সামনে থাকা এই সম্ভাব্য রেকর্ড।

ইতিহাসে মাত্র দুই দলের কীর্তি
বিশ্বকাপ ফুটবলের ৯৬ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দল পরপর দুই আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে:
১. ইতালি: ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮ সালে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতে।
২. ব্রাজিল: কিংবদন্তি পেলের যুগে ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালে একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করে।

ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক অর্জনের পর দীর্ঘ ছয় দশক পার হয়ে গেলেও বিশ্বের আর কোনো দেশ এই ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি স্পর্শ করতে পারেনি।

কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস
বিগত বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি পরাশক্তি দল এই রেকর্ডের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে এসে ব্যর্থ হয়েছে:

আর্জেন্টিনা (১৯৯০): ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯০ সালেও ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাদের।

ব্রাজিল (১৯৯৮): ১৯৯৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৯৮ সালের ফাইনালে উঠেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে জিনেদিন জিদানের জাদুতে পরাজিত হয়।

ফ্রান্স (২০২২): সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল। তবে লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কাছেই টাইব্রেকারে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেস্তে যায় ফরাসীদের।

চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের ট্র্যাজেডি
টানা দুইবার ফাইনাল খেলা তো দূরের কথা, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন লজ্জাজনক নজিরও রয়েছে যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল পরের আসরে গ্রুপ পর্বের বৈতরণীই পার হতে পারেনি। ১৯৩৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। ঠিক একই ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছিল ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিও; ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্বের তলানি হিসেবে আসর থেকে ছিটকে পড়েছিল।

বিপরীতে, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবার ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এক সোনালী অধ্যায় যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। রোববারের মেগা ফাইনালে জয় পেলে তারা শুধু নিজেদের শোকেসে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফিই তুলবে না, বরং ৬৪ বছর ধরে অক্ষত থাকা ব্রাজিলের সেই অনন্য রেকর্ড নিজেদের করে নিয়ে কিংবদন্তির পাতায় অমর হয়ে যাবে।