বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই সেশনে প্রায় ২ ডলার বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৮ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৬৭ ডলারে ওঠে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৭ ডলার বা ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৩৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে। তার মতে, সংঘাতটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ না হলেও আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন বাজারে প্রভাব ফেলছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ববাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।