শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আঘাত হানা এই ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর থেকে দেশজুড়ে ৭০ বারেরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির চিত্র
সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মূলত পেরেইরা এবং ক্যালি শহরে চণ্ড ক্ষয়ক্ষতি ও সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে:

হতাহত ও ধস: তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতেই অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানকার ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ধসে পড়েছে।

আবাসিক ভবনে আঘাত: ক্যালির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ‘ভ্যানেসা ভবন’ নামের ৭ তলা বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব (OCHA): জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের মতে, ভূমিকম্পে দেশজুড়ে প্রায় ৫,০০০ ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণপণ উদ্ধার তৎপরতা
ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবন্ত উদ্ধারে স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন:

মানবশৃঙ্খল ও রাবিশ অপসারণ: শত শত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মানবশৃঙ্খল গড়ে তুলে বালতি ও বেলচা দিয়ে ভবনের কংক্রিট সরিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছেন।

জীবনের আশায় নীরবতা: উদ্ধারকারীরা মাঝেমধ্যেই সংকেত দিয়ে আশপাশের সকলকে একদম নিঃশব্দ হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন, যেন কংক্রিটের পুরু স্তরের নিচ থেকে আটকে থাকা জীবিতদের ন্যূনতম ক্রন্দন বা সাড়া কান পেতে শোনা যায়।

বিশাল এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দুর্গত এলাকাগুলোতে নতুন করে আফটারশকের ঝুঁকিতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ বেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।