শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

২০২১ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন বিদেশ সফর বাবদ ভারত সরকারের মোট খরচের পরিমাণ ৫৫৭ কোটি ৫১ লাখ রুপি ছাড়িয়েছে। তবে এই একই সময়ে ভারতে মোট ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ কোটি রুপি) বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির (আপ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং এবং সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য ড. ভি সিভাদাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা।

বছরভিত্তিক সফরের ব্যয়ের হিসাব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সময়কালের জন্য নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরের একটি খসড়া হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জুনে ফ্রান্স সফরসহ সাম্প্রতিক বেশ কিছু বহুপাক্ষিক সফরের চূড়ান্ত বিল এখনও প্রক্রিয়াধীন থাকায় এই খরচের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বছরভিত্তিক খরচের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

২০২৫ সাল: ১৮৭.৮৩ কোটি রুপি (সর্বোচ্চ)

২০২৪ সাল: ১০৯.৫১ কোটি রুপি

২০২৩ সাল: ৯৩.৬৩ কোটি রুপি

২০২৬ সাল (অসম্পূর্ণ/খসড়া): ৭৪.৫৯ কোটি রুপি

২০২২ সাল: ৫৫.৮৩ কোটি রুপি

২০২১ সাল: ৩৬.১২ কোটি রুপি

সফরের সুফল ও বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI)
প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্দিষ্ট কোনো দেশ সফরের ফলে কতটুকু এফডিআই সরাসরি এসেছে—এমন কোনো সরাসরি পরিসংখ্যান সরকার উপস্থাপন করেনি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এসব সফর বৈশ্বিক সম্পর্ক মজবুত করার একটি ‘প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম’।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা রাজ্যসভায় জানান, এসব হাই-প্রোফাইল সফরের মাধ্যমে ভারতের প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), প্রতিরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও মহাকাশ গবেষণার মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অগণিত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সাপ্লাই চেইন জোরদার করতে ভূমিকা রাখছে।