শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউক্রেনের নির্দিষ্ট তিনটি কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানোর সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল ইরান। তবে চূড়ান্ত মুহূর্তে হামলার জবাব দেওয়ারঠিক পূর্ব মুহূর্তে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করায় সে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি।

ইউক্রেনে হামলার পটভূমি ও কিইভের ক্ষমা প্রার্থনা
ইরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের তিনটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো হামলা চালানোর শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া হলে অভিযানটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

হামলার এই পরিস্থিতির নেপথ্যে ছিল কাস্পিয়ান সাগরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। গত ২৫ জুলাই ইরান অভিযোগ এনেছিল যে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার ফলে একজন ইরানি নাবিক নিহত হন।

ঘটনার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই হামলার যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির দায় ইউক্রেনকে নিতে হবে এবং তেহরানকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় ইরান পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত নিলেও ইউক্রেনের ক্ষমাপ্রার্থনায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

মার্কিন বহরকে ধ্বংসের দাবি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে রেজায়ি মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমা ও সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়েও কড়া বার্তা দেন:

সামুদ্রিক করিডোর ও হরমুজ প্রণালি: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইরান নির্ধারিত নৌপথের বাইরে নতুন কোনো সামুদ্রিক করিডোর গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। কোনো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজ অবৈধ পথ ব্যবহারের চেষ্টা করলে তেহরান সরাসরি সেটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আঘাত: সাম্প্রতিক ১৭ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইরান সফলভাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে বলে দাবি করেন তিনি। রেজায়ির মতে, ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক ড্রোন হামলার মুখে ওয়াশিংটনের বড় বড় সামরিক লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ উত্তেজনার পর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুন মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই করে।

তবে গত জুলাই মাসে সেই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়লে দুই দেশ আবারও টানা প্রায় দুই সপ্তাহজুড়ে পরস্পরের ওপর পাল্টাপাল্টি মারাত্মক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।