শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সুদানে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০-এর বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। আর এই নিষ্পাপ শিশুদের সিংহভাগই আধুনিক ড্রোন হামলার নির্মম শিকার।

গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সুদানের মানবিক সংকটের ভয়াবহ চিত্র
জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে সুদানজুড়ে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে:

প্রাণহানি: চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

বাস্তুচ্যুতি: যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু বা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।

দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বর্তমানে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি। ৩ কোটিরও বেশি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

বর্তমানে সুদানের সরকারি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ)-এর মধ্যে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ করদোফান, দারফুর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া হামলার প্রায় ৬০ শতাংশই চালানো হয়েছে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ও নিন্দা
সুদানের উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে ঘিরে আরএসএফ (RSF) এবং তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বনেতারা গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন।

এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রস্তাবে এল-ওবেইদ ও তার আশপাশের বেসামরিক এলাকায় আরএসএফ-এর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুদান থেকে পালিয়ে যাওয়া লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয় এবং যুদ্ধে সব ধরনের ক্ষতিকর বিদেশি হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করা হয়।

টানা ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে সুদানের স্কুল, সাধারণ বাজার, জ্বালানি ডিপো এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

“সুদানের শিশুরা বর্তমানে অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক ভয়াবহ এবং অন্তহীন চক্রে আটকে পড়েছে। আমরা সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি অবিলম্বে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো রক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জোর আকুতি জানাচ্ছি।”
— শেলডন ইয়েট, সুদানে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি।

বন্ধ খনি ধসে ১৫ শ্রমিকের মৃত্যু
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার সুদানের মিসর সীমান্তবর্তী ওয়াদি হালফা এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার পরিত্যক্ত একটি স্বর্ণখনির একাংশ ধসে অন্তত ১৫ জন অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।

সুদানের রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ কোম্পানি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাজনিত ঘাটতির কারণে খনিটি আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শ্রমিকরা সেখানে পুনরায় অবৈধভাবে খননকাজ শুরু করেছিলেন।

সূত্র: এপি নিউজ