রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এখন কোচিংয়ের বাইরে অবসরের সময় কাটাচ্ছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলা। গত জুনে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এক দশকের সফল অধ্যায়ের ইতি টেনে ক্লাবটি ছাড়েন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুনির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থনে নিজেকে না জড়ালেও, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহাকাব্যিক ফাইনালকে ঘিরে নিজের আকর্ষণীয় মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন এই স্প্যানিশ কোচ। যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে তাঁর নিজের দেশ স্পেন এবং তাঁর প্রিয় সাবেক শিষ্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

আগামী রোববার দিবাগত রাতে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনাল। ম্যাচটি সামনে রেখে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমকে গার্দিওলা বলেন, “বিশ্বকাপে আমি সুনির্দিষ্ট কোনো দলকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিইনি। তবে অবশ্যই আমার পছন্দের কিছু খেলোয়াড়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল। টুর্নামেন্ট জুড়ে সেসব খেলোয়াড়ের দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছি এবং তাদের উৎসাহ দিতে পেরে আমি খুশি।”

স্পেনের ট্রাম্পকার্ড: রদ্রি, পেদ্রি ও ইয়ামাল
বিশ্বকাপজয়ী দল নিয়ে সরাসরি কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস না দিলেও দুই ফাইনালিস্টের শক্তির মূল দিকগুলো নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করেছেন গার্দিওলা। নিজের দেশ স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এই স্প্যানিশ কোচের মতে:

“যদি মাঝমাঠে পেদ্রির সঙ্গে রদ্রি (ম্যান সিটিতে গার্দিওলার অন্যতম সেরা শিষ্য) তার মানের যথাযথ প্রদর্শন করতে পারে, তবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। আর তরুণ লামিন ইয়ামাল যদি নিজের সেরাটা দিতে পারে, তবে স্পেন সহজেই পার্থক্য গড়ে দিতে পারবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সাম্প্রতিক ইনজুরির কারণে ইয়ামাল শারীরিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে আছে ঠিকই, তবে তার বয়স কম। তার অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও প্রতিপক্ষের ওপর দাপুটে মনোভাব যেকোনো চাপ সামলে একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।”

আর্জেন্টিনার সুবিধা: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও মেসি
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার শক্তির মূল উৎস হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির কথা উল্লেখ করেন বার্সেলোনায় মেসির সোনালী দিনগুলোর এই রূপকার। গার্দিওলার ভাষায়, “আর্জেন্টিনা হলো ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমানে মেসি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফর্মে আছে। এই বিষয়টি আর্জেন্টিনাকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে এবং বড় সুবিধা দেবে। কারণ মেসি এমন একজন খেলোয়াড়, যে মাঠের যেকোনো পরিস্থিতি চোখের পলকে বদলে দিতে পারে।”

গার্দিওলা কিঞ্চিৎ কূটনীতির আশ্রয় নিয়ে বলেন, “যদি আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে, তবে আমি খুশি হব কারণ সেখানে এমন খেলোয়াড় আছে যাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও ভালোবাসি। একইভাবে ফ্রান্স বা পর্তুগালের ক্ষেত্রেও আমার একই ভাষ্য ছিল, সেখানে এমন সব খেলোয়াড় আছে যারা আমাকে মুগ্ধ করেছে।”

৫৬ বছর বয়সি পেপের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাক্ষাৎকারে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এবং ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার প্রসঙ্গ নিয়েও মুখ খুলেছেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, “বার্সেলোনায় যখন আমার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৩৭ বছর, আর এখন আমি ৫৬। জীবনে চলার পথে এখন আমার নতুন কিছু করতে হবে। এই মুহূর্তে আমি যেভাবে আছি, খুশি আছি। একদিন অবশ্যই আমি সাধারণ দর্শক বা অন্য কোনো ভূমিকায় ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরে যাব। তবে এখন আমি মিডিয়া ও পর্দার আড়ালে থাকতে চাই। ফুটবল বিশ্বে যেখানেই আপনাদের আমাকে দরকার হবে, সেখানেই আমাকে পাবেন।”

ম্যানচেস্টার সিটিতে থাকাকালে লিভারপুলের সাবেক বস ইয়ুর্গেন ক্লপের সঙ্গে ডাগআউটের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের স্মৃতিও রোমন্থন করেন গার্দিওলা। ক্লপকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী আখ্যা দিয়ে পেপ বলেন, “ইয়ুর্গেন আমার পুরো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাচের মাত্র ২০ মিনিটেই তিনি কৌশলে পুরো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারতেন, যা মাঝেমধ্যে আমাকে আক্ষরিক অর্থেই পাগল করে দিত।”

সংবাদের উৎস: স্প্যানিশ মিডিয়া