শিরোনাম:
বিশ্বকাপ জিততে আর্জেন্টিনার যে শিক্ষা কাজে লাগাতে পারে স্পেন

ফাইল ছবি
১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭
নিউজ ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালের হাই-ভোল্টেজ মহারণের আগে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের দিকে। আর এই রণক্ষেত্রের বাঁশি বাজার আগেই প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রাণভ্রমরা লিওনেল মেসির প্রশংসায় মেতেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড এমন কিছু গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা আগামী রোববারের (১৯ জুলাই) মেগা ফাইনালের আগে তাঁর নিজের দলের মধ্যেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
তারুণ্যের উদ্যম ও মেসির পরিপক্বতা
লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান, মেসি এখনো ১৯ বা ২৩ বছর বয়সি কোনো তরুণের মতো অদম্য উদ্যম নিয়ে ফুটবল খেলেন। কাকতালীয়ভাবে, এবারের আসরের অন্যতম কনিষ্ঠ দল নিয়েই ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। ‘লা রোহা’দের গড় বয়স মাত্র ২৬.১ বছর, যেখানে অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইনদের গড় বয়স ২৮.৫ বছর। মাঠের গতি ও ক্ষিপ্রতার লড়াইয়ে স্পেনের এই তরুণ ও সতেজ পাগুলোই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
স্পেন কোচ মেসির পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করলেও, তাঁর নিজের তরুণ খেলোয়াড়রাও বয়সের তুলনায় মাঠে অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন স্প্যানিশ স্টারবয় লামিন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সি ইয়ামাল বারবারই বলেছেন যে, তাঁর ওপর কোনো চাপ কাজ করে না; তিনি স্রেফ ফুটবল খেলাটা উপভোগ করেন। ফাইনালের মঞ্চে এই চাপহীন মানসিকতাই স্পেনের অন্যতম বড় অস্ত্র হতে পারে। তাঁর পাশাপাশি কঠিন মুহূর্তে দানি ওলমো কিংবা পেদ্রো পোরোদের মতো খেলোয়াড়রা দলের প্রয়োজনে বারবার নিজেদের মেলে ধরেছেন।
আর্জেন্টিনার থেকে পাওয়া বড় শিক্ষা: হার না মানার মানসিকতা
মেসিকে ‘ক্লান্তিহীন এবং অতৃপ্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দে লা ফুয়েন্তে। টুর্নামেন্ট জুড়ে স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যেও এই ক্ষুধা দেখা গেছে। তবে মেসির মানসিকতা নিয়ে কথা বলার সময় স্প্যানিশ কোচের মুখে আর্জেন্টিনার থেকে পাওয়া এক শক্তিশালী বার্তা উঠে আসে।
শিক্ষা ও কৌশল:
স্প্যানিশ কোচ ব্যাখ্যা করেন, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ম্যাচে পিছিয়ে থাকা কিংবা পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াইয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম কোনো বাধা নয়—যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের ওপর বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা বজায় থাকে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বারবার তা প্রমাণ করেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার কারণে আলবিসেলেস্তেদের বেশ কয়েকটি বড় জয় এসেছে একদম শেষ মুহূর্তে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, রেফরির শেষ বাঁশি বাজার আগে ম্যাচ জয় বা পরাজয়ের কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়।
ইংল্যান্ডের ভুল থেকে শিক্ষা
যার বাস্তব ও নির্মম অভিজ্ঞতা হয়েছে সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ডের। ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংলিশরা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল; তারা ভেবেছিল এক গোলই ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আর্জেন্টিনা ও মেসি ভিন্ন কিছু ভেবেছিলেন। তাঁরা ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান এবং ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেন।
দে লা ফুয়েন্তের বক্তব্য শুনলে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপ যাত্রা কতটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেছেন। মেসির যে গুণগুলোর প্রতি তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন—তারুণ্যের শক্তি, সহনশীলতা, পরিপক্বতা এবং হার না মানার মানসিকতা—তার সবটুকুই স্পেনের এই তরুণ স্কোয়াডের ডিএনএ-তে বিদ্যমান। মাঠের চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্পেন যদি আর্জেন্টিনার এই ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ার’ গুণের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরাস্ত করে ট্রফি নিজেদের করে নেওয়ার উপযুক্ত সূত্রটি তাদের হাতেই থাকবে।









