শিরোনাম:
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল কি গোল্ডেন বুটের হিসাবে যোগ হয়?

ফাইল ছবি
১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭
নিউজ ডেস্ক
বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর কোনো দলই আসলে সান্ত্বনার ‘তৃতীয় স্থান নির্ধারণী’ ম্যাচটি খেলতে চায় না। ইংল্যান্ডের ম্যানেজার থমাস টুখেলও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল।”
খেলোয়াড় বা কোচের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব কেবলই আনুষ্ঠানিকতা হলেও, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের অন্য একটি বড় আকর্ষণ রয়েছে। আর তা হলো—বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট বা সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল কি গোল্ডেন বুটের হিসাবে যোগ হয়? উত্তর হলো—হ্যাঁ, অবশ্যই যোগ হয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচসহ টুর্নামেন্টের সব কটি ম্যাচের গোলই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সমানভাবে গণ্য করা হয়।
এমবাপ্পে-কেইন-বেলিংহামদের সামনে বড় সুযোগ
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য এই ম্যাচটি গোল্ডেন বুট একচ্ছত্রভাবে নিজের করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা শীর্ষ তারকাদের বর্তমান সমীকরণ:
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট (ফাইনাল খেলবেন)
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট (৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবেন)
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট (৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবেন)
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট (৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবেন)
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট (৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবেন)
যেহেতু অ্যাসিস্টের দিক থেকে মেসি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, তাই এমবাপ্পে যদি শনিবারের ম্যাচে ইংল্যান্ডের জালে অন্তত একটি গোল জড়াতে পারেন, তবে তিনি এককভাবে তালিকার শীর্ষে চলে যাবেন। অন্যদিকে ৬ গোল করা হ্যারি কেইন কিংবা জুড বেলিংহাম যদি এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক বা একাধিক গোল করতে পারেন, তবে ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে পুরো হিসাব।
ইতিহাস যখন সাক্ষী: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল্ডেন বুট ভাগ্য
বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অতীতে বহু কিংবদন্তি এই সান্ত্বনার ম্যাচটিতে গোল করেই নিজেদের মাথায় গোল্ডেন বুটের মুকুট পরেছেন।
২০১০ (থমাস মুলার): জার্মানির এই তারকা উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে ৫ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জেতেন।
১৯৯৮ (ডেভর সুকার): ক্রোয়েশিয়ার এই স্ট্রাইকার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করে মোট ৬ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেন।
১৯৯০ (সালভাতোরে শিলাচি): ইতালির এই তারকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ (৬টি) গোলদাতা হন।
১৯৩৮ (লিওনিদাস): ব্রাজিলের এই কিংবদন্তিও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়েছিলেন।
এছাড়াও ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রেগর লাতো, ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (যিনি এক বিশ্বকাপেই রেকর্ড ১৩ গোল করেছিলেন)—সবাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন।
শনিবারের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ফ্রান্সের দিদিয়ে দেশম এবং ইংল্যান্ডের থমাস টুখেল তাঁদের মূল তারকাদের একাদশে রাখেন কি না এবং খেলোয়াড়রা কতটা চাঙ্গা মনে মাঠে নামেন, তার ওপরেই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠছে!









