শিরোনাম:
এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

ফাইল ছবি
১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০
নিউজ ডেস্ক
লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বসেরার শিরোপা এনে দেন তিনি।
২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে সোনালী ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবারও সেই ট্রফি ছোঁয়ার অনবদ্য সুযোগ পেয়েছেন তিনি। হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। আর এই স্মরণীয় জয়টি মেসি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
ম্যারাডোনার জার্সি হাতে আবেগঘন মেসি
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে টিওয়াইসি স্পোর্টসের (TyC Sports) এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক সেই ১০ নম্বর জার্সি। আবেগঘন সেই মুহূর্তে জার্সিটি জড়িয়ে ধরে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।
মেসি বলেন:
‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে আমাদের এই ম্যাচটি উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, আমরা তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এই ঐতিহাসিক জয়টি অবশই তার জন্য আমাদের একটি বিশেষ উপহার।’
চার দশক পর যেন ১৯৮৬-এর পুনরাবৃত্তি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই ২-১ গোলের জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই অবিনশ্বর স্মৃতি। সেবার মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন।
চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে ঠিক একই ব্যবধানে (২-১) হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর ১৯৮৬ সালের মতো এবারও জয়ের মূল কেন্দ্রে ছিলেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন বরফশীতল শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার পুরো ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই সরাসরি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
প্রথম গোল: প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে বক্সের ভেতর নিখুঁত এক পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন এলএমটেন।
জয়সূচক গোল: ম্যাচের শেষভাগে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে বাড়ানো মেসির এক নিখুঁত ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক বুলেট হেড।
সামনে এবার স্পেন ও ব্রাজিলের রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি
ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহাকাব্যিক এই ফাইনালে জয় পেলে ১৯৬২ সালের পেলের ব্রাজিলের পর ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার (ব্যাক-টু-ব্যাক) বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। কাপ ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় ও ঐতিহাসিক অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি যে চিরকাল অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই কিংবদন্তি।









