শিরোনাম:
ম্যারাডোনার আরেক বিশ্বকাপ রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে মেসি

ফাইল ছবি
১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯
নিউজ ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসির সামনে এবার অপেক্ষা করছে আরও একটি ঐতিহাসিক অর্জন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামলেই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ভেঙে দিতে পারেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ৩৯ বছর ধরে অক্ষত থাকা বিশ্বকাপের একটি অনন্য রেকর্ড।
এবারের আসরে ছয় ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। তবে গোলের পাশাপাশি আক্রমণভাগে তার সামগ্রিক সৃষ্টিশীল অবদানও বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ছে।
ম্যারাডোনার ‘৩৯ বছরের’ রেকর্ড বনাম মেসির বর্তমান রূপ
পরিসংখ্যান ও ফুটবল গবেষণা সংস্থা ‘অপ্টা জো’ (OptaJoe)-এর তথ্য অনুযায়ী, একক বিশ্বকাপ আসরে গোলমুখে সম্পৃক্ততার (শট ইনভলভমেন্ট) হিসেবে ইতিহাসের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইন্টার মিয়ামির এই কিংবদন্তি তারকা।
লিওনেল মেসি (২০২৬): এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪টি শট ইনভলভমেন্ট রয়েছে তার। এর মধ্যে ৩৩টি শট তিনি নিজে পোস্টের উদ্দেশ্যে নিয়েছেন, আর সতীর্থদের জন্য সরাসরি ২১টি গোলের সুযোগ (কি-পাস) তৈরি করেছেন।
ডিয়েগো ম্যারাডোনা (১৯৮৬): এই তালিকায় এখনও সবার ওপরে রয়েছেন ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে একক নৈপুণ্যে শিরোপা জেতানোর পথে তিনি ২৯টি শট নেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য ৩০টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন। মোট ৫৯টি শট ইনভলভমেন্টের সেই মহাকাব্যিক রেকর্ড প্রায় চার দশক ধরেই অক্ষত রয়েছে।
আগামী বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামলেই ম্যারাডোনার সেই ৫৯টি শট ইনভলভমেন্টের রেকর্ড স্পর্শ কিংবা ভেঙে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন মেসি। তাঁর বর্তমান অতিমানবীয় ফর্ম বিবেচনায় এই কীর্তি গড়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
থ্রি-লায়নসদের বিপক্ষে প্রথম দ্বৈরথ ও ফাইনালের মঞ্চ
রেকর্ডের পাশাপাশি আরও একটি বিশেষ কারণে এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে দাগ কেটে থাকবে। বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা।
ফলে একদিকে যেমন ম্যারাডোনার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার হাতছানি, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো থ্রি-লায়নসদের বধ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার গুরুদায়িত্বও থাকবে এলএমটেনের (LM10) কাঁধে। ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন নিজের করে নেওয়া মেসির সামনে এখন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়টি আরও রাঙানোর অপেক্ষা।









