শিরোনাম:
বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ফাইল ছবি
২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় খবর
দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের সরকারি অনুদান বা বৈষয়িক সুবিধা পাননি বলে অকপটে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। উল্টো রাজনৈতিক কারণে পাঁচবার তাঁকে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৮তম কার্যদিবসে সংসদ পরিচালনাকালে স্বতঃস্ফূর্ত এক মন্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজের দীর্ঘ সংসদীয় জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, “৪০ বছর ধরে আমিও এই মহান সংসদে কাটিয়েছি। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলেরও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু বিরোধী দলে থাকাকালীন সরকারি কোনো তহবিল থেকে একটি কানাকড়িও কোনোদিন পাইনি। প্রাপ্তি বলতে কেবল পাঁচবার গ্রেফতার হয়ে জেলে যেতে হয়েছে, এটুকুই। প্রাপ্তিযোগ অন্য কিছু আর ঘটেনি।”
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রশংসা
এর আগে জাতীয় বাজেটের ওপর দেওয়া বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের দীর্ঘ ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা প্রায় এক ঘণ্টার সুচিন্তিত বক্তব্যে দেশের চলমান নানাবিধ সমস্যা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বাজেটের বিভিন্ন ভালো-মন্দ দিক অত্যন্ত চমৎকারভাবে ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে এই সংসদে তুলে ধরেছেন।
‘স্পিকারের চেয়ারে থাকায় নিজের এলাকার সমস্যা বলতে পারি না’
নিজের বর্তমান পদের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
“সংসদের এই নিরপেক্ষ সর্বোচ্চ আসনে বসার কারণে আমি এখন চাইলেও আমার নিজের জন্মভূমি ও আমার প্রাণের নির্বাচনি এলাকা ভোলার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও স্থানীয় সমস্যাগুলোর কথা এই সংসদে দাঁড়িয়ে সরাসরি বলতে পারি না। তবে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে অবহেলিত ভোলাসহ সারা দেশের প্রান্তিক মানুষের সমস্যাগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।”
স্পিকার তাঁর বক্তব্যে আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা দেশের উন্নয়ন, বাজেট সংস্কার ও জনকল্যাণে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সমস্যাগুলো আজ সংসদে উত্থাপন করেছেন, দেশের সার্বিক স্বার্থে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন।









