রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সময় সাশ্রয় এবং দেশের শিক্ষাবর্ষকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (এবং প্রথম বাজেট) অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা থেকে সংসদের এই বৈঠক শুরু হয়।

পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস ও সেশনজট মুক্তি
শিক্ষামন্ত্রী সংসদে জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে যুগোপযোগী ও সেশনজটমুক্ত করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।

নতুন লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে।

সুবিধা: এই সিদ্ধান্তের ফলে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর হবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদের ৮০% পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ
সংসদের একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। খায়রুল কবির খোকন তার প্রশ্নে জানতে চান—বর্তমানে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে; নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে কিনা এবং এই শূন্য পদগুলো কবে নাগাদ পূরণ হবে।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান:

“প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। আইনি জটিলতা পুরোপুরি কেটে যাওয়ায় এখন খুব দ্রুতই যোগ্য সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ হয়ে যাবে।”

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ৮০ শতাংশ পদই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নতুন এই বিধিমালা তৈরির পর মামলাজনিত কারণে এতদিন পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন যেহেতু আদালতের চূড়ান্ত রায় চলে এসেছে, তাই সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত এই পদোন্নতি দেওয়া হবে।