রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

“তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নতুন উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক অগ্রগতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে,” বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এবং সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিকূলতা জয়ের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বড় অর্জনের পথচলাই সহজ নয়। সফলতার জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করতে হবে। তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বাধা টপকে সফলতা অর্জন সম্ভব।

জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য ও নিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“আমি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তাই নতুন উদ্যোক্তাদেরও কোনো বাধায় ভেঙে না পড়ে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি তরুণদের আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করতে সর্বাত্মক নীতিগত ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর যাত্রা ও চেক বিতরণ
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা, আন্তর্জাতিক মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সব সেবা একক প্ল্যাটফর্মে (Single Window) পাওয়া যাবে।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত শীর্ষ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন। এরপর প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে সিনেট ভবনে আয়োজিত উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টলসমূহ ঘুরে দেখেন, যা আগামী ১৫ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এআই ও সাইবার নিরাপত্তার যুগে ঢাবির অঙ্গীকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

ধন্যবাদ জ্ঞাপনকালে ঢাবি উপাচার্য বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, ভাষা প্রযুক্তি এবং তথ্যনির্ভর শাসনব্যবস্থার এই আধুনিক যুগে তরুণদের নতুন দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। জ্ঞান থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি বিভাগের সমন্বিত রোডম্যাপের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করতে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে ঢাবির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।