রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপের অন্যতম বড় শ্রমবাজার জার্মানি। দেশটিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা থাকায় বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চাকরির নির্দিষ্ট অফার না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে কাজ খোঁজার একটি বৈধ পথ হলো ‘অপারচুনিটি কার্ড’ বা জার্মান ভাষায় ‘চান্সেনকার্টে’।

অপারচুনিটি কার্ড মূলত জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার জন্য দেওয়া একটি আবাসন অনুমতি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বা ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (ইএফটিএ)-এর বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা এ কার্ডের মাধ্যমে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। আবেদন করার সময় জার্মান কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট চাকরির অফার থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

কতদিনের জন্য দেওয়া হয়?

অপারচুনিটি কার্ড সাধারণভাবে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। এ সময় চাকরি খোঁজার পাশাপাশি সপ্তাহে মোট ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত খণ্ডকালীন কাজ করা যায়। চাকরি খোঁজার অংশ হিসেবে কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের ট্রায়াল কাজও করা যায়।

যোগ্য চাকরি পাওয়ার পর আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপযুক্ত ওয়ার্ক বা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যোগ্য চাকরির প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো আবাসন অনুমতি প্রযোজ্য না হলে অপারচুনিটি কার্ড আরও সর্বোচ্চ দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে।

কারা পেতে পারেন?

অপারচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে।

প্রথম পথ: আবেদনকারীর বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা জার্মানিতে সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত হলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট সিস্টেমে ৬ পয়েন্ট অর্জনের প্রয়োজন নেই। এই পথের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার আলাদা প্রমাণও বাধ্যতামূলক নয়, যদিও চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে জার্মান ভাষা জানা উপকারী।

দ্বিতীয় পথ: পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় আবেদন করতে হলে বিদেশি আবেদনকারীর এমন একাডেমিক বা পেশাগত যোগ্যতা থাকতে হবে, যা তিনি যে দেশে অর্জন করেছেন সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। পেশাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। এর পাশাপাশি ভাষাগত যোগ্যতা পূরণ করে অন্তত ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।

পয়েন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতা, জার্মান ভাষাজ্ঞান, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, জার্মানিতে আগের অবস্থান, যোগ্যতার আংশিক স্বীকৃতি ও ঘাটতি-পেশার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

ভাষাগত যোগ্যতা কতটুকু?

পয়েন্টভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে জার্মান ভাষায় অন্তত A1 অথবা ইংরেজিতে অন্তত B2 পর্যায়ের দক্ষতা থাকতে হয়। জার্মান ভাষায় উচ্চতর দক্ষতা থাকলে পয়েন্টও পাওয়া যায়।

কত টাকা দেখাতে হবে?

জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে পারবেন—এমন আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের জন্য সরকারি নির্দেশনায় সাধারণভাবে প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো নিট অর্থের সক্ষমতা দেখানোর কথা বলা হয়েছে। এটি সাধারণত ব্লকড অ্যাকাউন্ট বা উপযুক্ত অঙ্গীকারপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়।

চাকরি পাওয়ার পর কী হবে?

অপারচুনিটি কার্ড নিজে স্থায়ী পূর্ণকালীন চাকরির অনুমতি নয়। জার্মানিতে গিয়ে যোগ্য চাকরি পাওয়ার পর আবেদনকারী পরিস্থিতি অনুযায়ী দক্ষ কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লু কার্ড বা অন্য উপযুক্ত আবাসন অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।

পড়াশোনা নাকি সরাসরি চাকরি?

বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শুধু কোন দেশে বা কী বিষয়ে পড়াশোনা করা হবে, তা নয়—পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

যারা পড়াশোনার পরিবর্তে সরাসরি দক্ষ কর্মী হিসেবে জার্মানিতে যেতে চান, তাদের জন্য অপারচুনিটি কার্ড একটি বিকল্প পথ। তবে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং জার্মানিতে যে ধরনের চাকরি করতে চান—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।

জার্মান সরকারের ‘Make it in Germany’ পোর্টালেও আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অপারচুনিটি কার্ডের সেলফ-চেক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।