রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে (ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি) প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সভায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এখানে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এবং সিলেটের বিস্তীর্ণ চা-বাগান। এসব পর্যটনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে সরকার।

জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা রয়েছে। পর্যটন খাতের বিকাশেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার পারস্পরিক সুবিধাজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে সরকারের।

সভায় জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁরা আন্তরিক এবং দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে অংশীদার হতে প্রস্তুত। এ সময় তাঁদের পক্ষ থেকে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিনিয়োগের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রতিনিধিদল বিনিয়োগকারীদের দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন অবকাঠামো ও আতিথেয়তা খাতের সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের নির্দিষ্ট প্রকল্প, অর্থায়নের কাঠামো ও বাস্তবায়ন-সময়সূচি সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।