শিরোনাম:
লাদাখের তুষার চিতা ট্র্যাকিং পেল বিশ্বসেরাদের স্বীকৃতি

ফাইল ছবি
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯
নিউজ ডেস্ক
পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ বন্যপ্রাণী তুষার চিতা। হিমালয় ও লাদাখের দুর্গম, বরফঢাকা পার্বত্য অঞ্চলে বিচরণ করা এই প্রাণীকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে দেখার অভিজ্ঞতা এবার পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বের ৩০টি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার তালিকায় লাদাখের তুষার চিতা ট্র্যাকিং চতুর্থ স্থান পেয়েছে।
ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান বেইলি রবিনসনের প্রকাশিত ‘ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপেরিয়েন্স ইনডেক্স’-এ লাদাখের তুষার চিতা ট্র্যাকিং ১০০-এর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৫ স্কোর পেয়েছে। তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩০টি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে।
সূচক তৈরিতে ছয়টি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে—প্রাণীর বিরলতা, আবাসস্থলের দুর্গমতা, সংরক্ষণে গুরুত্ব, অভিজ্ঞতার একান্ততা, গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা এবং প্রাণীটি দেখার সম্ভাবনা।
তুষার চিতার শরীরে ধূসর-সাদা লোমের ওপর কালো ছোপ রয়েছে। বরফ ও পাথুরে পাহাড়ের সঙ্গে এই রং মিশে যাওয়ায় প্রাণীটিকে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সাধারণত দুর্গম ও উঁচু এলাকায় বিচরণ করা এই প্রাণী মানুষের উপস্থিতিও এড়িয়ে চলে।
লাদাখে তুষার চিতা দেখার অভিযান মূলত শীতকেন্দ্রিক। বিশেষ করে হেমিস ন্যাশনাল পার্কের রুমবাক, উলে ও শাং উপত্যকাকে এ ধরনের ট্র্যাকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয়। শীতকালে তুষার চিতার শিকার প্রাণী নিচু উপত্যকার দিকে নেমে আসায় এ সময় প্রাণীটির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
বেইলি রবিনসনের বিক্রয় পরিচালক সারাহ পার্কার ‘কনডে নাস্ট ট্রাভেলার’-কে বলেন, তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রাণীর বিরলতা ও আবাসস্থলের দুর্গমতার সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, অসাধারণ বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার জন্য অনেক সময় পর্যটকদের সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে, গভীর বন্য পরিবেশে যেতে হয়।
তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছে রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় মাউন্টেন গরিলা ট্র্যাকিং। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যান্টার্কটিকায় সম্রাট পেঙ্গুইন দেখার অভিযান এবং তৃতীয় স্থানে কাজাখস্তানে সাইগা অ্যান্টিলোপ দেখার অভিজ্ঞতা। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে জাভান গণ্ডার পর্যবেক্ষণ।
ভারতীয় উপমহাদেশের আরও দুটি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতাও তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। নেপাল, ভুটান বা ভারতে লাল পান্ডা দেখার অভিজ্ঞতা ৭৮ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে ১৫তম এবং ভারত বা নেপালে একশৃঙ্গ গণ্ডার দেখার সাফারি ৭৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে ২১তম অবস্থানে রয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রচণ্ড ঠান্ডা, বরফঢাকা উপত্যকা এবং প্রাণীটির স্বভাবগত গোপনীয়তা—সব মিলিয়ে লাদাখে তুষার চিতা ট্র্যাকিং সহজ কোনো বন্যপ্রাণী ভ্রমণ নয়। আর এই কঠিন ও বিরল অভিজ্ঞতাই আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে লাদাখের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।









