রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত মাসে পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৫৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই দাপ্তরিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মানবিক সংকট ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের পর দেশটিতে এক বিশাল মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে:

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার: ভূমিকম্পে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে এ পর্যন্ত জরুরি মানবিক ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়শিবির: ঘরবাড়ি হারানো বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য দেশজুড়ে ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০ হাজার ২৩১ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

স্থায়ী আবাসনের সংকট: আশ্রয়শিবিরে জায়গা পাওয়া মানুষ ছাড়াও এখনো ১৭ হাজার ৯০৭ জন নাগরিক স্থায়ী আবাসনের বাইরে ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি
ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশটির আবাসন ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী:

দুর্যোগে সর্বমোট ৮৫৬টি বহুতল ও গুরুত্বপূর্ণ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে মাটির সাথে মিশে গেছে, যার ফলে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা ও উৎস
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্যমতে, গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। শক্তিশালী এই কম্পনে মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ।

বর্তমান পরিস্থিতি:
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশজুড়ে এখনো সেনা ও উদ্ধারকারী দলের যৌথ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজও সমানতালে চলছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব চূড়ান্ত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

সংবাদের উৎস: আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency)