শিরোনাম:
বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা

ফাইল ছবি
১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
নিজেকে যেন সিনেমার জনপ্রিয় চরিত্র ইন্ডিয়ানা জোনসের (Indiana Jones) সঙ্গে তুলনা করে সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনো মাঠের লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ‘বিজেপির শাসনের অবসান’ না দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চান।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই যখন মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন, তখন তিনি পালটা দাবি করেছেন—দলত্যাগের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া দলকে তিনি আবারও শূন্য থেকে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।
বয়স ও মৃত্যুকামনা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা
৭১ বছর বয়সি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক বার্তায় বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন:
“আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। মানুষের বয়স নির্ধারণ করে তার মন, শরীর ও মানসিক শক্তি। আমি কি কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যত দিন না তোমাদের (বিজেপির) পতন দেখি।”
বয়সকে প্রত্যাবর্তনের পথে কোনো বাধা মনে করেন না জানিয়ে মমতা বলেন, অতীতের মতো এবারও তিনি দলকে একদম নতুনভাবে ও নতুন শক্তিতে গড়ে তুলবেন।
বিদ্রোহী ও দলত্যাগীদের উদ্দেশ্য করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। ঝরে পড়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, সেটাই হবে আমার আসল সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালে যেমন একা নতুন করে দল শুরু করেছিলাম, ২০২৬ সালেও তেমনই পারব। আমার সেই সাহস ও ক্ষমতা এখনো আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন-তিনটি প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা এই কঠিন সময়েও আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব।”
ফেসবুক বার্তার শেষাংশে তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ স্লোগান দিয়ে ঘোষণা দেন, “করব, লড়ব, বাঁচব।” এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার বা অবসরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর অভিধানে নেই।
নজিরবিহীন বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে টিএমসি
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধায়কদের বিদ্রোহ: রাজ্য বিধানসভা ও জাতীয় সংসদে নির্বাচিত তাঁর দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। দলের বিধায়কদের একটি বড় অংশ বর্তমানে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সাংসদদের দলত্যাগ: লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
২১ জুলাইয়ের ‘শহীদ দিবস’ ও আদালতের ধাক্কা
আগামী ২১ জুলাই তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ দিবস’ সমাবেশের ঠিক কয়েক দিন আগেই মমতার এই আবেগঘন ও আক্রমণাত্মক বার্তা সামনে এল। দলটির রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এবারই প্রথম একই দিনে দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ (মমতা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী) মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়ায় কলকাতায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে সমাবেশ আয়োজনের ভেন্যু নিয়েও বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা গোষ্ঠী। গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন টিএমসি গোষ্ঠীকে কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানে এক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী নিহত হন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
সংবাদের উৎস: এনডিটিভি (NDTV)









