রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই দখলদারিত্বে বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয় ওয়ারিশরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

রাতের আঁধারে জমি দখলের অভিযোগ
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে স্কুলের মালিকানাধীন মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ছয় লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন:

“প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি সিক্সলেন সড়কের পাশে অবস্থিত স্কুলের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির মধ্য থেকে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। অথচ এই জমির মালিকানা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমরা বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে’ দাবি কাফির
দখল এবং হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, ওই স্কুলের জমির পেছনে তাঁর নিজস্ব কেনা জমি রয়েছে, কিন্তু সেখানে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই।

কাফির বক্তব্য ও জমির ইতিহাস:

ক্রয়ের প্রস্তাব: কাফি জানান, রাস্তা না থাকায় তিনি প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে ওই জমিটি নিয়ম মেনে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন প্রধান শিক্ষক জানান যে, স্কুলের জমি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিবের নামে রেকর্ড করা।

আদালতের রায় ও বায়না: পরবর্তীতে কাফি জানতে পারেন যে, মোবারক পঞ্চায়েতের নাতি সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানসহ স্থানীয় ওয়ারিশরা দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ওই জমির পক্ষে রায় পেয়েছেন। এরপর তিনি সেই ওয়ারিশদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে ওই ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং ওয়ারিশরাই তাঁকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

সামাজিক হেনস্তা: কাফির দাবি, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই স্কুল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

কাফির এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে জমির দাবিদার ওয়ারিশ সালাউদ্দিন নয়ন বলেন, “ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির প্রকৃত মালিক আমরা। এ পর্যন্ত চারটি রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অহেতুক আমাদের হয়রানি করছে এবং তাদের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি স্থানীয় একটি পক্ষ থেকে জমিটি কিনেছেন। তবে একই জমির মালিকানা স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় ওই পরিবারটি উভয়ই দাবি করছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জমিটি নিয়ে আদালতে এখনো মামলা চলমান রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেদিকে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।