শিরোনাম:
মাদ্রাসা সুপার নিহতের ঘটনায় বাসে আগুন, সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুর

ফাইল ছবি
১২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ সারাদেশ খবর
রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এক মাদ্রাসা সুপার নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ঘটনার ছবি তুলতে গেলে ‘আমাদের প্রতিদিন’ পত্রিকার এক সংবাদকর্মীর ক্যামেরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে অগ্নিসংযোগকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে স্থানীয়রা।
আজ রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানা এলাকার তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার আত্মত্যাগ
নিহত আবুল কাশেম (৪৫) মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান বালুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি রংপুর মহানগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। আবুল কাশেম নগরীর জিয়াতপুকুর মাজার শরীফ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং স্থানীয় মিলনপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:
দুর্ঘটনার বিবরণ: সকালে নিজের মেয়েকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে রংপুর থেকে ঢাকাগামী ‘আরএম স্পেশাল পরিবহণ’-এর একটি দ্রুতগামী বাস তাকে চাপা দেয়।
বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ: স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে আবুল কাশেম নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত রাস্তার পাশে সরিয়ে দেন। ফলে শিশুটি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান তার বাবা।
বাসে অগ্নিসংযোগ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিকে আটক করে সড়কের মাঝখানে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা বাসের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ সময় মহাসড়কে বিশৃঙ্খলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ‘আমাদের প্রতিদিন’ পত্রিকার সাংবাদিক সরিফুল ইসলামের ওপর চড়াও হয় অগ্নিসংযোগকারীরা। তারা প্রকাশ্যেই তাঁর পেশাগত ক্যামেরাটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে।
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট
ভয়াবহ এই ঘটনার পর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক সম্পূর্ণ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ জনতা। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিক্ষোভকারীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, নিহত মাদ্রাসা সুপারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া আরএম স্পেশাল পরিবহণের বাসটি পুলিশ জব্দ করেছে। এ ছাড়া মহাসড়কে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মুর্তজা (৫৬) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।









