বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আজ ৩০ মে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

শনিবার ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

এরপর বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের কর্মসূচি রয়েছে। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বিকেল ৩টায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবে দলটি।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টি অ্যান্ডটি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

পরে হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবীদের উদ্যোগে আয়োজিত দুস্থদের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারে এফডিসির সামনে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও ইউনিটে অসচ্ছল মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার ধারণা তুলে ধরার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।