শিরোনাম:
মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃত জনযুদ্ধ: স্পিকার

ফাইল ছবি
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় খবর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি জনযুদ্ধ, যা ছিল সমগ্র জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই রেজিমেন্ট প্রতিরোধ শুরু না করলে বাংলাদেশ হয়তো আজও পাকিস্তানের অংশ হয়ে থাকত।
শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সিনিয়র টাইগার্স’ আয়োজিত অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নাম গৌরবের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু বীরত্বসূচক পুরস্কার অর্জন করে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমগ্র জনগণের যুদ্ধ। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল। যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেনি, তারা জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁদের জীবন ছিল রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি মুহূর্তে বিজয়ের প্রত্যাশা ও মৃত্যুর শঙ্কা নিয়ে তাঁরা যুদ্ধ করেছেন। বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে এই রেজিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে।
স্পিকার আরও বলেন, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে নিজের জীবনের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন স্পিকার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে সাহসিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধে এই রেজিমেন্টের ভূমিকার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে ‘সিনিয়র টাইগার্স’-এর পক্ষ থেকে স্পিকারকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সেনা কর্মকর্তা, বিশিষ্ট অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









