রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় পর্যন্ত কেন্দ্রের বিভিন্ন প্যারামিটার নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়েও উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ার তৈরি তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) মডেলের পারমাণবিক চুল্লি। এই প্রযুক্তিতে একাধিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

ধাপে ধাপে এগোচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।

এর পরের ধাপ ‘বি-২’, যেখানে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।

এই পর্যায়ে পারমাণবিক বিভাজনের মাধ্যমে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় সরবরাহের পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হওয়ার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে।