শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশে ছানির অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করতে দেশব্যাপী বিনামূল্যে ও সুলভ মূল্যে ছানি অপারেশনের এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের প্রথম ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’ (বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন)-এ আয়োজক দেশ অ্যান্টিগার পাশাপাশি বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘কো-হোস্ট’ বা সহ-আয়োজক হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে, যেটিতে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবি (IAPB)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

এক ধাক্কায় কমছে ছানি অপারেশনের খরচ
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রায় ১০ লাখ মানুষ কেবল চোখের ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিংবা অন্ধত্ব বরণ করে আছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও জনবান্ধব সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান:

বাজেটে কর হ্রাস: সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা খরচ এক ধাক্কায় কমিয়ে আনতে এবারের জাতীয় বাজেটে চোখের ছানি অপারেশনের পর যে কৃত্রিম ‘লেন্স’ ব্যবহার করা হয়, তার ওপর থেকে কর (ট্যাক্স) উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিনামূল্যে অপারেশন: লেন্সের দাম কমার পাশাপাশি এই ১০ লাখ মানুষের জন্য দেশব্যাপী বিনামূল্যে এবং অত্যন্ত সুলভ মূল্যে ছানি অপারেশনের একটি সমন্বিত বিশেষ কর্মসূচি দ্রুত শুরু করা হচ্ছে।

বিশ্বমঞ্চে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ
আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল সামিটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ কো-হোস্ট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে একই সময়ে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থাকায় তিনি যদি কোনো কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে না-ও পারেন, তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে কো-হোস্টের দায়িত্ব পালন করবে।

গ্রামীণ শিশুদের জন্য বিশেষ চশমা ও চোখ পরীক্ষা কর্মসূচি
গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের চোখের সুরক্ষায় সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গ্রাম-গঞ্জের অনেক শিশু চশমা ও সময়মতো চোখ পরীক্ষার অভাবে সঠিকভাবে দেখতে পায় না, যা তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে চরম বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইএপিবি-কে গ্রামীণ শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিও আমাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।”

‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম পথপ্রদর্শক’
আন্তর্জাতিক চক্ষু সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম IAPB-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, আগামী ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য এই গ্লোবাল সামিট বিশ্বনেতাদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হবেন।

“বিশ্বজুড়ে চোখের দৃষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জাতিসংঘে (UN) দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি স্পন্সর বা উথাপন করেছিল বাংলাদেশ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্টদের দূরদর্শী নেতৃত্বে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে চক্ষু স্বাস্থ্যকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
— পিটার হল্যান্ড, প্রধান নির্বাহী, আইএপিবি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আমূল পরিবর্তনে সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (NGO)। বিশেষ করে দেশের ছানি অপারেশন সেবার মান উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে চশমা পৌঁছে দেওয়ার মতো প্রোগ্রামগুলোতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চলমান রয়েছে।